চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ভারতে স্বর্ণ চোরাচালানকে ঘিরে অপহরণ হওয়া ৫ ব্যক্তিকে ২৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। বুধবার (৫ নভেম্বর) যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের কুল্লা গ্রামের একটি নির্জন খামারবাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
বুধবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাহারারত বিল্লাল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী সাগরিকা খাতুন (২৮)-কে আটক করা হয়। পাশাপাশি অপহৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানকারী স্থানীয় চিকিৎসক বিকাশ দেবনাথকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে খামারবাড়ির মালিক রেজাউল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল গফ্ফার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
এর আগে গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫০), হাসান মিয়া (২৬), আবুল হোসেন (২৭) ও স্বপন ইসলাম (৪৪) নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর হাসান মিয়ার বাবা শওকত আলী বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় আব্দুল মজিদ, মিজানুর রহমান রুবেল, লালন মণ্ডল, আব্দুস সামাদ, বিপ্লব হোসেন ও শাহীনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর গয়েশপুর সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫ কেজি স্বর্ণ ভারতে পাচারের চেষ্টা করেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু ওই চালানটি হারিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সোনা উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশি সহযোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এর পরই পাঁচজনকে অপহরণ করে স্বর্ণ পাচারকারীরা। ধারণা করা হচ্ছে, অপহৃত ও অপহরণকারীরা একই চক্রের সদস্য। মূলত হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া একজনের হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে, আর বাকি চারজনের শরীরেও রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন। এতে স্পষ্ট হয়, হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের সন্ধান জানতেই তাদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছিলো।
৩ নভেম্বর এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। পরদিন (৪ নভেম্বর) জীবননগর থেকে দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার সকালে ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উদ্ধারকৃতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন