নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া উপজেলার দক্ষিণ দমদমা এলাকার হিয়াল মাঠসহ চলনবিলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানার চাপে মাঠ, খাল-বিল এবং প্রাকৃতিক স্রোতধারা প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। এর প্রভাবে ওই এলাকায় বিদ্যুতের ১০ থেকে ১২টি পিলার উপড়ে পড়েছে এবং নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ফুলিয়া ও জলারতা ব্রিজের ওপর তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। এতে ব্রিজ দুটির গঠনগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বিলজুড়ে ভেসে থাকা কচুরিপানায় কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। স্রোতের সঙ্গে আসা কচুরিপানা ব্রিজের মুখে জমে বড় স্তূপের সৃষ্টি করেছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। এতে ব্রিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ দমদমা এলাকার কৃষক মো. নুর ইসলাম বলেন, আমার ৫ বিঘা জমির পাকা আমন ধান কচুরিপানার চাপে উপড়ে গেছে। আর কয়েকদিন পর ধান কাটার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সব শেষ। দ্রুত কচুরিপানা সরানো না হলে আগামী মৌসুমেও বড় ক্ষতির মুখে পড়বো।
এলাকাবাসীর দাবি, মহাসড়কের ভাটি অংশে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অবৈধ মাছ শিকারীরা বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় কচুরিপানা সরানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, এই বিশাল এলাকার কচুরিপানা এলাকাবাসীর একার পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমরা বিনা পারিশ্রমিকে সহযোগিতা করবো।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানা স্রোতে চাপ দিলে ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি চলার সময় মাঝে মাঝে পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক জাকারিয়া হোসেন বলেন,কচুরিপানা নষ্ট করতে কীটনাশক দিলে মাছসহ জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয়। পরিবেশের কথা চিন্তা করে আমরা সেটা করি না। কিন্তু বছরের পর বছর কচুরিপানায় আমাদের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এলাকাবাসী দ্রুত মহাসড়কের ব্রিজ এবং বিদ্যুৎ লাইন রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি—দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।নচেৎ আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম