রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ইতিহাসের গভীর বোধ না থাকলে, কোনো সংস্কারক প্রজ্ঞাবান হতে পারে না, আর কোনো বিচারক তাঁর সভ্যতার শিকড় বোঝা ছাড়া আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না।
শনিবার(৮নভেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইন হলো কোনো জাতির নৈতিক ইতিহাস, যা ন্যায়ের ভাষায় লেখা হয়; আর ইতিহাস হলো কেন সমাজকে আরও ভালো হতে হবে, তার অনুসন্ধান।
তিনি আরও বলেন,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছরের যাত্রা কেবল একাডেমিক সাফল্যের ইতিহাস নয়, এটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
তিনি প্রয়াত শিক্ষাবিদ ও দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রজন্মের একজন, যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নৈতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। তাঁর জীবন ছিল নারীর একাডেমিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক যা এখনো আমাকে প্রভাবিত করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সংস্কারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক; যাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাকে নয়, মানুষকে সেবা দেয়; কর্তৃত্ব বৈধতার সঙ্গে যুক্ত হয়; এবং বিচার বিভাগ জনগণের আস্থার নৈতিক অভিভাবক হয়।
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ফিলিস্তিন ও থাইল্যান্ড। তিনি বলেন, এই সংযোগের উদ্দেশ্য হলো আইনের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনের আন্তবিষয়ক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বিশ্বজনীন মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান। সভাপতিত্ব করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ার পারসন মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারর্স২৪/এসসি