চাঁদপুর প্রতিনিধি : গত ২১ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় সালমান খান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। এ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করেছিলেন সালমান খানের স্ত্রী শাবনুর। তবে ঘটনার ২০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আসামিদের আটক বা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি চুরির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারাও এখন জামিনে মুক্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
প্রবাসী আবুল কালাম প্রধানিয়ার বাড়ির চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ক্ষতিগ্রস্ত সালমান খান বলেন, গত ২১ অক্টোবর রাতে আমার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিনই থানায় জিডি করি।
পরদিন বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে তার স্ত্রী শাবনুর বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দুইজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন— সদরের শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিমন হোসেন রকি ও কাশেম পাটওয়ারীর ছেলে আরাফ উদ্দিন নয়ন।
মামলার বাদী শাবনুর বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দুই চোরকে সনাক্ত করে পুলিশ আটক করে। তারা কীভাবে আবার জামিনে মুক্ত হলো, তা আমি জানি না। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি এবং চুরি যাওয়া দুই ভরি স্বর্ণের চেইন, এক ভরি ওজনের দুটি বালা, দুটি স্যামসাং মোবাইল এবং নগদ ২২ হাজার টাকা ফেরত চাই।”
সালমান খান বলেন, “প্রায় ২০ দিন পার হলেও চুরির ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি আটক হয়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দুইজনকে পুলিশে সোপর্দ করি। তাদের আদালতে চালান দেওয়া হলেও গত ২৬ অক্টোবর তারা জামিনে মুক্ত হয়। ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আমার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য জামিনে থাকা দুইজনসহ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।”
বাড়ির মালিকের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, “ঘটনার দিন ওই তিন যুবক একসঙ্গে আসে। দুইজন নিচতলায় থাকে, আরেকজন চতুর্থ তলায় উঠে তালা ভেঙে জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তাদের তিনজনের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়। ঘটনার পর একজন একা বের হয়ে যায়, দুইজন অন্য রাস্তা দিয়ে পালায়। শুনেছিলাম তারা নাকি বাসা ভাড়া নিতে এসেছে, কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলেনি, ফোনও দেয়নি।”
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মামুন বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর আমরা ঘটনাটি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সিসিটিভির ফুটেজটি আমাদের সংগ্রহে আছে। দুইজনকে আটক করা হয়। তারা দুইজন জামিনে আছে। প্রধান আসামীকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করা হয়েছে। থানার ওসিকে ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রিপোর্টার্স ২৪/এসএন