| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আফগানিস্তানে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১২, ২০২৫ ইং | ০৬:১০:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ১২৬৪৬০৯ বার পঠিত
আফগানিস্তানে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক
ছবির ক্যাপশন: আফগানিস্তানে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারীদের চিকিৎসা নিতে হলে বোরকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ ৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে। এমএসএফ-এর আফগান কর্মসূচির ব্যবস্থাপক সারা শাতো বিবিসিকে বলেন, এই বিধিনিষেধ নারীদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বহু নারী বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

তবে তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার পর কিছু এলাকায় বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল করা হয়েছে। এমএসএফ জানায়, হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালের শিশু বিভাগে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন নারী রোগীর ভর্তি ২৮ শতাংশ কমে গেছে। তালেবান মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খায়বার দাবি করেন,নারীদের বোরকা না পরলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের অবস্থান শুধু হিজাব পরিধান সংক্রান্ত।

মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি দপ্তরে প্রবেশের সময় নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হেরাতের এক নারী অধিকারকর্মী বলেছেন, সরকারি ভবন বা স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশ করতে হলে যেকোনো নারীকে এখন বোরকা পরতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক আফগান কর্মী প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে কিছু নারী বোরকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে বিবিসি ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

তালেবান প্রশাসন ২০২১ সালের আগস্টে পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ জারি করেছে। ২০২২ সালে তারা ডিক্রিতে নারীদের মুখসহ পুরো শরীর ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়।

এছাড়া, নারীদের অধিকাংশ কর্মক্ষেত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ বারবার আফগান নারীদের ওপর এই বিধিনিষেধকে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক শাসন’ বা ‘জেন্ডার অ্যাপারথাইড’ বলে অভিহিত করেছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী ইসলাম কালা চৌকিতে নারী কর্মীদের ওপর বিধিনিষেধের কারণে কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। হেরাত প্রদেশের সীমান্ত পথ দিয়ে গত এক বছরে ইরান থেকে শত-সহস্র আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪