কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া মাঠে-ঘাটে প্রান্তরে জিয়াউর রহমান নিজে খাল কেটেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন একটি অপশাসনের যাঁতাকলে আমরা নিষ্পেষিত ছিলাম। এরকম একটি কৃষকবান্ধব কর্মসূচিও বিগত সরকার করতে চায়নি বা করা হয়নি। এক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে বাংলাদশের উৎপাদনের ক্ষেত্রে, ক্ষতি হয়েছে কৃষকের।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড ছড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে উপরোক্ত কথা বলেন-দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি আরো বলেন-বাংলাদেশের যে তিনটি জেলা দারিদ্র্য। তার মধ্যে কুড়িগ্রাম অন্যতম। এর মূল কারণ হলো কর্মসংস্থান নাই, বিকল্প কর্মসংস্থান নাই, শিল্প কারখানা নাই। এখানে ভূট্টা ও আলু প্রচুর উৎপাদন হয় শুধু কৃষি কাজর উপর নির্ভরশীল।
কৃষকদের ভাগ্য বার বার একটি দুষ্ঠু চক্রের ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। এর পলে কৃষকরা দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা স্টোর বানাবো। যাতে অতিরিক্ত আলু ও ভূট্টা সংরক্ষণ করা যায়।
তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে জমির দাম কম, শ্রম সস্তা, মানুষ ভালো, আইনশৃঙ্খলাও ভালো। আমাদের এলাকার লোকজন কাজের অভাবে শ্রম বিক্রি করার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। ঢাকা শহরে যেয়ে অটো ও রিক্সা চালায়।
কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখের কারণ ধরলা, দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী। নদী ভাঙনে প্রচার মানুষ প্রতি বছর ভূমিহীন হয়ে পড়ে। এ সমস্ত মানুষ তাদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে ফেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে কাজের জন্য যাচ্ছে। যে কারণে আমি দেশের বড় বড় নামিদামি ব্রান্ডের কোম্পানিগুলোকে বলেছি কুড়িগ্রামে তাদের শিল্পকারখানা স্থাপন করতে। আমরা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আপনারা কুড়িগ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে সরকার আপনাদের সার্বিক সাপোর্ট দিবে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন, ভোটের কালি মুছে যাবার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অনেক উন্নয়ন করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদ-মন্দিরের ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা প্রদান ও কৃষকের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের উপর অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবুও তিনি হাতে নেয়া প্রতিটি কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই। যে বাংলাদেশের জন্য আমার পিতাসহ স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে এবং দুই লাখ মা বোনের ইজ্জত গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই। বাংলাদেশ যেন আর পথ হারিয়ে না যায়। আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূন্না দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ প্রমূখ।
এ সময় অন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সাবেক পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, হাসিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব প্রমূখ।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু