স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী ও পুলিশের সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। বুধবার ট্রাইব্যুনাল–২-এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এ দিনে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল। জবানবন্দিতে তিনি জানান, গত বছর জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ নিয়মিতভাবে এমপি সাইফুল ইসলামের নির্দেশে বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও আন্দোলন দমনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন।
আবজালুল বলেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওসি সায়েদ থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের একত্র করে আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। পরে দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওসি সায়েদ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে থানায় ফিরে আসেন।
তিনি জানান, ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র–জনতার একটি বিজয় মিছিল থানার দিকে এলে ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলি চালান। এতে কয়েকজন মিছিলকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পুলিশ লাশগুলো ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে আসে।
জবানবন্দিতে আবজালুল আরও বলেন, দুই দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার পর তিনি সিভিল পোশাকে থানা এলাকা ত্যাগ করেন। ১৫ আগস্ট থানায় ফিরে পিস্তল জমা দেওয়ার পর জানতে পারেন, নিহতদের লাশ পরদিন পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন ওসি সায়েদ ও বিশ্বজিৎ। এরপর তাঁরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টে চলে যান।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ডিআইজি নুরুল ইসলাম, তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফি ও শাহিদুল কেউই ঘটনাটির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
রাজসাক্ষী আবজালুল জানান, মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিবেকবোধ থেকে সত্য উদ্ঘাটনে সহযোগিতা করতে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। শহীদদের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, “তাদের প্রতি আমার ঋণ কিছুটা শোধ করতেই সত্য প্রকাশ করেছি।”
জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান আংশিক জেরা করেন। বৃহস্পতিবার জেরা অব্যাহত থাকবে।
চানখাঁরপুলে হত্যার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে মূল তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত এসপি মো. মনিরুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। জেরা করার জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল–১।
জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তদন্তে পাওয়া সব তথ্য–প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি