রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটা বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগে জেলায় চলছে দুদিনের সর্বাত্মক হরতাল। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। সকাল থেকেই শহরের রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, বনরূপাসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলে সড়ক ও নৌ দুই পথেই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে স্কুলকলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হরতালের কারণে রাঙামাটির সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দূরপাল্লার বাস, আন্তঃজেলা পরিবহন এবং ছয় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ পরিবহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। বাজার–দোকানপাটের বেশির ভাগই বন্ধ দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় লোকজনের চলাচলও কম। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি চাকরিতে ৭ শতাংশ কোটা রেখে ৯৩ শতাংশ পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগের যে সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ তা মানেনি। বরং পরিষদ কর্তৃপক্ষ ৭০ শতাংশ পাহাড়ি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি কোটা ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোটাবিরোধী ঐক্যজোটের নেতা ইমাম হোসেন ইমু বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কোটার নামে বৈষম্য আমরা মেনে নেব না। সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে শহরের বনরূপার একটি রেস্তোরাঁয় কোটাবিরোধী ঐক্যজোট, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতালের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলা পরিষদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোটা উল্লেখ না থাকা এবং শূন্যপদের সংখ্যা স্পষ্ট না করার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা হরতালের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ বহাল রাখার দাবি ওঠে। তবে পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার তখন বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নয়, পরিষদ তার নিজস্ব আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্তমান হরতাল কর্মসূচি চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম