বেলাবো (নরসিংদী) প্রতিনিধি: বেলাবো উপজেলার বীরবাঘবের গ্রামের পোলট্রি ব্যবসায়ী আজিমুল কাদের ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামি মো. রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে বেলাবো থানা পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হ্যাপি হোমস আবাসিক এলাকার নুরুল ইসলামের রিকশা গ্যারেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুবেল মিয়া নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সফর আলীর ছেলে। তিনি বেলাবো উপজেলার বীরবাঘবের গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার পোলট্রি খামারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি রুবেল আজিমুল কাদের ভূঁইয়াকে হত্যা করে তার খামারসংলগ্ন মুরগির বর্জ্য ফেলার ডোবায় লাশ ফেলে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিহতের দুটি খামার থেকে প্রায় ৪ হাজার মুরগি, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা, পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে যান।
দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর ২৯ জানুয়ারি মুরগির বর্জ্যে ভরা একটি গর্ত থেকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহতের ভাই মো. আনোয়ার কাদের ভূঁইয়া ওরফে আলমগীর বেলাবো থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের বড় বোন ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড চাই।”
মামলার বাদী আনোয়ার কাদের ভূঁইয়া ওরফে আলমগীর পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “খুনিকে গ্রেপ্তার করায় আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা চাই, আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করুক।”
বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, “আজিমুল কাদের ভূঁইয়াকে হত্যা করে তার মরদেহ মুরগির বর্জ্য ফেলার ডোবায় বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ টাকার মুরগি নিয়ে পালিয়ে যায় আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন