| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়, চলছে অতিরিক্ত ফি আদায়

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৮, ২০২৬ ইং | ১৯:৩৬:১৭:অপরাহ্ন  |  ১৬২৩ বার পঠিত
ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়, চলছে অতিরিক্ত ফি আদায়

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সেবার নামে চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সাধারণ খামারিরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকার অবমাননার চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাম পাশে একটি প্লাস্টিকের বাঁকা পাইপে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। পাইপটি একদিকে হেলে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার ও প্রদর্শনের নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও সেখানে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। সচেতন মহলের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পরিপন্থী।

সেবা নিতে আসা খামারি ও পশুপালকদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। পশুর চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। সেবা চার্ট থাকলেও তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

মদনপুরা গ্রামের খামারি শামীম জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা ছাগল কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে বাইরে থেকে ব্লেড কিনে আনতে বলেন। এমনকি তাকেই ছাগলের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। সরকারি ওষুধ ও যথাযথ সেবার অভাবে শেষ পর্যন্ত ছাগলটি মারা যায়। চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সূর্যমনি ইউনিয়নের খামারি ফারুক হোসেন বলেন, একসময় তার বড় খামার ছিল। কিন্তু প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসকদের অবহেলা এবং সেবার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে তিনি খামার গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের ফোনেও পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাঠ সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) মনিরুল ইসলাম জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু রায়হান বলেন, “যদি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খামারিদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদানই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তবে স্থানীয় খামারি ও বাসিন্দাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, অনিয়ম ও ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪