| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছুটির দিনে ডিউটি, ভূমিকম্পে আহত বহু শ্রমিক, নিহতের গুঞ্জন!

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২১, ২০২৫ ইং | ০৮:২১:৪১:পূর্বাহ্ন  |  ১২২২৩৫৪ বার পঠিত
ছুটির দিনে ডিউটি, ভূমিকম্পে আহত বহু শ্রমিক, নিহতের গুঞ্জন!
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা ইপিজেডে আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল দশটা আটত্রিশ মিনিটে ভূমিকম্পের সময় একাধিক কারখানা খোলা থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেয়াল ফাটল, থাইগ্লাস ভেঙে পড়া এবং প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে গিয়ে অসংখ্য শ্রমিক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত আট থেকে দশটি অ্যাম্বুলেন্স আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনেও জোরপূর্বক ডিউটি করানো হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় দুর্যোগের সময় শ্রমিকদের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। আহতদের মধ্যে অনেকেই মাথা, চোখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ভূমিকম্পে নিহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও, এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি সূত্র থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

কর্মরত শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন দশ থেকে বারো ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত ছুটির দিনেও কারখানা খোলা রেখে অতিরিক্ত ডিউটি করানো হয়, যার ফলে অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন। কিন্তু ছুটি চাইলেও তা মঞ্জুর করা হয় না। বরং ছুটি চাওয়ার কারণে চাকরি হারানোর হুমকি, বেতন কর্তন এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কুমিল্লা ইপিজেডের কিছু কারখানায় শিশুশ্রমের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশুরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছে। বয়স যাচাই না করেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরিচয়পত্রে বয়স বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশুশ্রমের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বেপজার নীরবতা উদ্বেগজনক। কীভাবে এই শিশুদের চাকরি দেওয়া হয়, কারা নিয়োগ দেয় তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেডে প্রায় পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক কর্মরত। এখানে ছেচল্লিশটি কোম্পানি, গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক্সসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে কাজ করছে। এটি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা।

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯ অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিনে জোরপূর্বক কাজ করানো বেআইনি। শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত ডিউটির জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

এই ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। স্থানীয়রা শিশু শ্রমিক নিয়োগ ও অতিরিক্ত খাটুনির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪