রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্বের প্রায় ৩৫০ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি গোপনে সংগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসবিএ রিসার্চের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এই দুর্বলতার বিষয়টি প্রকাশ করেন।
গবেষকরা জানান, হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক থাকার কারণে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল সংক্রান্ত তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তার ফাঁক বা মেটা প্ল্যাটফর্মের গোলযোগের কারণে।
গবেষণা দলের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গেগেনহুবার বলেন, একটি উৎস থেকে এত বিপুলসংখ্যক অনুরোধ স্বাভাবিক নয়। এই অস্বাভাবিক আচরণই ত্রুটিটি শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে।
দলের সদস্য আলইওশা ইউডমায়ার বলেন, অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপশন বার্তার বিষয়বস্তু সুরক্ষিত রাখলেও মেটাডেটা সুরক্ষিত থাকে না। বিপুল মেটাডেটা বিশ্লেষণ করলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়ে।
মেটা শেষমেষ নিরাপত্তা ত্রুটি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, ত্রুটি ঠিক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি অনুসন্ধানে সীমা আরোপ করা হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খরচও থাকতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহসভাপতি নীতীন গুপ্ত বলেন, গবেষকরা বাগ বাউন্টি প্রগ্রামের মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে আমাদের সহায়তা করেছেন। কিছু তথ্য স্ক্র্যাপ করা সম্ভব হয়েছে, তবে বার্তার অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের ওয়েব ইন্টারফেস ব্যবহার করে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক কোটি ফোন নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবি পাওয়া গেছে এবং ২৯ শতাংশের চ্যাটও দেখা সম্ভব হয়েছে। মেটার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার ফলে কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রকাশ্য তথ্য হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের হাতে গেলে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম