রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাঠে পাঠিয়েই সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা থাকে। তাদের সংগঠন, কর্মী-সমর্থন এবং কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন থেকে শুধুমাত্র ডিসি বা ইউএনওকে বাজারে পাঠিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
চালের দাম বাড়ায় বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু সরবরাহ নয়, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলেও দাম নির্ভর করে। বাজারে প্রচুর চাল থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় মিলেমিশে হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাজেট সংশোধন ডিসেম্বরেই:
অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট সংশোধনের কাজ আগামী ডিসেম্বরেই শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন করে জানুয়ারিতে পরবর্তী সরকারের জন্য সংশোধিত বাজেট প্রস্তুত করা হবে।
নির্বাচন ও গণভোটের ব্যয়:
এক দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ব্যয় বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। তবে এতে কোনো আর্থিক সমস্যা হবে না। ইসি বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যয় বাড়বে, তারা বাজেট সংশোধন করছে। তাদের নিজস্ব তহবিল আছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। নির্বাচনের খরচ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে নির্বাচন খাতে বরাদ্দ থাকা ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হবে কি না, এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত হয়নি। গণভোট বিষয়টি নতুন, বাজেট তৈরির সময় এটি বিবেচনায় ছিল না।
এক দিনে ভোট আয়োজনই উত্তম:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ মনে করলেও সরকার এটিকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দুই দিনে এ আয়োজন করা কঠিন। রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সবাইকে যুক্ত করতে হয়। এক দিনে আয়োজন করাই ভালো। বিশ্বেও অনেক দেশে এমনটি হয়।
বিদেশে ভোটার তালিকাভুক্তি:
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোতে ভোটার তালিকাভুক্তি শুরু হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হতে পারে। কর্মকর্তাদের ওভারটাইমসহ বাড়তি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হবে।
পুলিশের বডি ক্যামেরা কেনা:
পুলিশের বডি ক্যামেরা কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্থা তাদের নিজস্ব বরাদ্দ থেকেই ক্যামেরা কিনবে। কত সংখ্যক ক্যামেরা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচন কমিশন শুধু প্রয়োজনীয় স্থানগুলো চিহ্নিত করে জানিয়ে দেবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি