| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নওগাঁয় আমন ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক, দামে হতাশ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০১, ২০২৫ ইং | ০৫:৫৫:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ১১৭৮৭৮০ বার পঠিত
নওগাঁয় আমন ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক, দামে হতাশ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে পোকার উপদ্রব ও নভেম্বরের বৃষ্টিতে মাটিতে ধান শুয়ে পড়ায় ফলন কম হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি ও ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে—জেলায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৪১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছিল, যা থেকে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৩০ টন ধান উৎপাদনের আশা। তবে নভেম্বরের বৃষ্টিতে অন্তত ২ হাজার ৮৬১ হেক্টর আবাদ নষ্ট হয়। যা থেকে প্রায় ১০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদন হতো।

চারদিকে সোনালি রঙের নতুন আমন ধানের মৌ–মৌ ঘ্রাণ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। অপরিমিত প্রান্তরে শস্যের দোলা হাসি ফোটায় কৃষকের মুখে। উত্তরের জেলা নওগাঁর মাঠে-মাঠে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কাস্তে হাতে ধান কাটছেন কৃষক, আর পেছনে শালিক পাখির ঝাঁক খুঁজছে আহার। নতুন ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের আনন্দের বদলে মুখে মলিনতা।

কৃষকেরা জানান—গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের আবাদে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিঘায় ২–৩ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি কীটনাশক স্প্রে করতে হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিঘায় ফলন কমেছে ৪–৫ মণ। বিঘায় খরচ পড়েছে অন্তত ১৫ হাজার টাকা।

রোববার জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌড়ি সাপ্তাহিক হাটবার। সপ্তাহের ব্যবধানে এ হাটে ধানের দাম মণে ৭০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দুই সপ্তাহে কমেছে প্রায় ১০০ টাকা। এদিন হাটে আমন ব্রি-৭৫ ধান ১ হাজার ৫০ টাকা মণ, স্বর্ণা-৫ ধান ১ হাজার ১৩০–১ হাজার ১৫০ টাকা, ব্রি-৪৯ ধান ১ হাজার ২০০–১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ব্রি-৯০ ধান ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। তবে বোরো মৌসুমের পুরনো ধান সুবর্ণলতা ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাটারিভোগ–জিরাশাইল ধান ১ হাজার ৬৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।

হাটে ধান বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন—১৪ বিঘায় স্বর্ণা-৫ আবাদ করা হয়। প্রতিবিঘায় গড় ফলন ২০ মণ। বিঘায় খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ২৩ মণ ধান ১ হাজার ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ দামে ধান বিক্রি করে বিঘায় ৬–৮ হাজার টাকা লাভ দিয়ে তেমন সুবিধা হবে না। অন্তত ১ হাজার ৪০০ টাকা হলে লাভ হতো কিছুটা।

মহাদেবপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস আলম বলেন—এ বছর ৩ বিঘায় স্বর্ণা-৫ আবাদ করেছিলেন। শুরুতে আবাদ ভালো হয়েছিল। তবে নভেম্বরের বৃষ্টিতে ১০ কাঠার ধান পুরো নষ্ট হয়ে যায়। এতে অন্তত ১২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আখেড়া গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার বলেন—ধানে প্রচুর পোকার উপদ্রব হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৩ বার বেশি কীটনাশক স্প্রে করতে হয়েছে। এতে বিঘায় ৫০০ টাকার অতিরিক্ত কীটনাশক লাগছে। পোকার কারণে ফলনও কমেছে।

মান্দা উপজেলার মৈনম গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন—এক বিঘায় স্বর্ণা-৫ আবাদ করেছিলেন। বৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়ে। শ্রমিক সংকট থাকায় মজুরিও বেশি ছিল। তাই নিজেই ধান কাটতে হয়েছে। ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কাটতে সময় বেশি লেগেছে এবং ফলন পেয়েছেন ১৬ মণ। ধান খাড়া থাকলে ফলন আরও বেশি হতো।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মণ্ডল বলেন—বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও পোকার উপদ্রব কমেছে। এ বছর ৯ লাখ ৮৫ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদন হবে। ক্ষতি হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব পড়বে না।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪