স্টাফ রিপোর্টার: পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না হওয়ায় তাঁরা গভীর হতাশা জানিয়েছেন। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্বজনদের পক্ষ থেকে।
সোমবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন।
স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তাঁরা সামাজিক ও অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে কমিশন ১১ মাস ধরে কাজ করে।
সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল লুৎফর রহমান খানের মেয়ে ডা. ফাবলিহা বুশরা বলেন, প্রতিবেদন ‘ক্ল্যাসিফায়েড’ নয় বলে জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান। তাই দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ, সম্ভাব্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে ট্রাভেল ব্যান জারি করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, ৭৪ জনের প্রাণহানি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি জাতীয় বিপর্যয়।
কর্নেল কুদরত ইলাহীর ছেলে আইনজীবী সাকিব রহমান বলেন, কিছু নাম এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় এটা আমরা বুঝি; তবে দীর্ঘদিন গোপন রেখে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে হবে।
বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। প্রকৃত দায়ীদের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরেকটি পিলখানার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে এখন দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে জানতে পারবে, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবেদনটি দ্রুত অনলাইনে প্রকাশ করা উচিত।
মেজর কাজী মোসাদ্দেক হোসেনের মেয়ে কাজী নাজিয়া তাবাসসুম বলেন, ১৬ বছর ধরে পরিবারগুলো অবহেলা ও আশ্বাসের মাঝেই অপেক্ষা করেছে, এখনো সম্পূর্ণ আস্থা ফিরে পায়নি।
কর্নেল মুজিবুল হকের ছেলে মুহিব হক বলেন, ডিফেমেশন শুধু আইনি শব্দ নয় এটি আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে, ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এস