রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন এবং কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রমাণ করতে হবে,শিক্ষার্থীরা সত্যিই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে; ভিসার অপব্যবহার করে স্থায়ীভাবে দেশে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছে না।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা বাতিলের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে রাখতে বলা হয়েছে। ভর্তির অনুমতি পাওয়া শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত কোর্সে যোগ দিচ্ছে কি না এবং কোর্স সম্পন্ন করছে কি না এ বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। নিয়ম না মানলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বহু বেশি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ২২ শতাংশ,পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এই সময় ভিসা প্রত্যাখ্যাত ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর অর্ধেকই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। ফলে ঝুঁকি এড়াতেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ দুই দেশের শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে।
সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের আবেদন স্থগিত। গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ইনটেকে আবেদন বন্ধ; তবে ২০২৬ সালের কিছু কোর্সে সুযোগ থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সরকার সম্প্রতি শরণার্থী ভিসা, স্থায়ী আবাসন এবং ছাত্র ভিসার নিয়মে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর নীতি প্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, অনেক আবেদনকারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে আশ্রয়সহ স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন।
অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ বিতর্কের মধ্যে সরকার মোট অভিবাসন সংখ্যা কমাতে চাইছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় খাতেও।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নীতিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের যুক্তি: ভিসা প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে, ভুয়া শিক্ষার্থীদের প্রবেশ কমবে, অন্য দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা বেশি সুযোগ পাবে।
বিরোধীদের যুক্তি: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা অন্যায্যভাবে বঞ্চিত হবে, নিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের বহু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী না পেলে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ, দুই দেশের অনেক এডুকেশন এজেন্ট ভুল বা বিভ্রান্তিকর আবেদন জমা দেওয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যাতের হার বেড়েছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি