জামালপুর প্রতিনিধি : ২০১৪ সালে জামালপুরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অস্থায়ীভাবে শুরু হয় জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পথচলা। পরে এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাম পূর্বের নাম বহাল করা হয়।
ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনসহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৩০টি ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় জামালপুর গণপূর্ত বিভাগ।
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাইপাস সড়কের মনিরামপুর এলাকায় ২০১৬ সালে ৩৫ একর ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণকাজ। পরে তিন দফায় ব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৫০ কোটি টাকা।
২০১৪ সালে জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ নামে এ বৃহৎ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৬ সালে ৩৫ একর জমির ওপর শুরু হয় জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ। অভিযোগ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে কার্যাদেশ থাকলেও মূলত কাজের নামে পকেট ভারী করেন জামালপুরের আওয়ামী লীগের গডফাদার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও তার আস্থাভাজন পৌর মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু।
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে মেডিক্যাল কলেজের নির্মাণ হয়েছে বলেও অভিযোগ েআছে। তবে এক যুগেও নির্মাণ শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতালের মূল ভবনের কাজ।
সরেজমিন জানা যায়, হাসপাতালের ছোট-বড় ৩০টি ভবনের মধ্যে ২৬টি ভবনের কাজ শেষ হলেও হাসপাতালের জায়গাটি এখনো পড়ে আছে বিশাল জলাশয়ের আকারে। আর ওই জলাশয়ে মাছ চাষ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তৎকালীন মেয়র ছানু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের সাইট ম্যানেজার বলেন, তারা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন, ডাক্তার কোয়ার্টার, দুটি ছাত্রাবাস ও দুটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করেছে। সরেজমিন দেখা যায়, মাত্র চার বছর আগে অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলেও জরাজীর্ণ হয়ে গেছে ভবনগুলো। করা হচ্ছে অত্যাধুনিক কনফারেন্স হলের কাজও। লাগানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্র বলেন, সব কাজ হয়েছে নিম্নমানের। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের কাজ কবে শুরু হবে তা কেউ বলতে পারে না।
স্থানীয় সহিদুর, আলমাছ, মালেকসহ অনেকে জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে পকেট ভারী করেছে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা। মূল ভবন নির্মাণ না হওয়ায় অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকায় নির্মিত ২৬টি ভবন।
জামালপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুন মাসে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। আর ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। পরে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তৃতীয় দফায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানায় জেলা গণপূর্ত বিভাগ।
স্থানীয় রবিউল বলেন, “মেডিক্যাল কলেজটি চালু হলে রোগীদের আর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো না। অনেক রোগী সেখানে নেওয়ার পথেই মারা যায়।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, মেডিক্যাল কলেজ চালু না হওয়ায় ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ওপর রোগীর প্রচণ্ড চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, হাসপাতাল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব জিওবি ফান্ডে পাঠানো হয়েছে।
জামালপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল ভবন নির্মাণ না হওয়ায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালকে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন