রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশ ইন’–এর শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালী বিবি ও তাঁর শিশুসন্তানকে অবশেষে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাঁদের ভারতে হস্তান্তর করা হয়। তবে সোনালী বিবির স্বামী দানিশ শেখকে ফেরত নেয়নি বিএসএফ।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালী বিবিদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ মানবিক বিবেচনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিলে এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
ঘটনার পটভূমি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা সোনালী বিবি পরিবারসহ কাজের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। গত জুনে বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের আটক করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। পরে ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলীনগর এলাকা থেকে তাঁদের ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে সোনালী বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার এসআই রাজু আহমেদ জানান, শুক্রবার শুধু সোনালী বিবি ও তাঁর ৮ বছরের সন্তানকে ফেরত নেয় বিএসএফ। বাকি চারজনকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।
বিজিবির বিবৃতি
বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালী বিবি ও তাঁর সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিএসএফের পুশ ইন নীতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চুক্তি লঙ্ঘন করে। এসব ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও মুক্তি
আটকের পর দুটি শিশু ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়। গত ১ ডিসেম্বর আদালত তাঁদের জামিন দেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও ওই রাতেই পুলিশ তাঁদের ফের হেফাজতে নেয়।
ভারতে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ-নথি যাচাই শেষে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ ধীরগতির ছিল। মানবিক বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের তাগাদা পাওয়ার পর অবশেষে সোনালী বিবি ও তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে নেয় ভারত।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি