রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। শহরাঞ্চলে যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) নিয়মিতভাবে উচ্চ থাকে, সেখানে ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষা এখন জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশই বায়ুদূষণের গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের ১৩টি শহর রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায়। বায়ুদূষণ শ্বাসযন্ত্রের রোগ বৃদ্ধি করছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ধূমপান ও দূষণের যৌথ ক্ষতি
ধূমপান কেবল ধূমপায়ীর জন্য নয়; আশপাশের মানুষের জন্যও সমান ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা বড়দের তুলনায় দ্রুত শ্বাস নেয়। ডা. মৌমিতা মিশ্র জানান, গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপান বা দূষিত পরিবেশে থাকা ভবিষ্যতে সন্তানের ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর ঝুঁকি বাড়ায়।
বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান
বাতাসে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো বিভিন্নভাবে ফুসফুসকে ক্ষতি করে। এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি হলো—
পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM10, PM2.5): ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে।
গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন: হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বাড়ায়।
কার্বন মনোক্সাইড: শরীরে অক্সিজেন পরিবহন ব্যহত করে।
সালফার ডাইঅক্সাইড: গলা ও চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে।
নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড: যানবাহনের ধোঁয়া থেকে উৎপন্ন; ফুসফুসের সমস্যা বাড়ায়।
অতিরিক্ত দূষণ শ্বাসনালির পাশাপাশি রক্তপ্রবাহে গিয়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন গবেষণায় বায়ুদূষণ ও ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ফুসফুসে সমস্যা আছে কীভাবে বুঝবেন
নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি—
একটানা কাশি (এক সপ্তাহের বেশি)
নাক বা গলায় জ্বালা
শ্বাস নিতে কষ্ট
অল্প পরিশ্রমে দম বন্ধ হয়ে আসা
বুক ব্যথা বা শ্বাসের অসুবিধা
পূর্বের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বৃদ্ধি পাওয়া
কখন ফুসফুস পরীক্ষা করবেন
প্রতি বছর দূষণের মাত্রা বাড়ায় নিয়মিত পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (PFT) করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. মিশ্র জানান, স্পাইরোমেট্রি একটি দ্রুত, সহজ ও ব্যথাহীন পরীক্ষা, যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বোঝাতে কার্যকর।
স্পাইরোমেট্রি যেভাবে করা হয়
একটি যন্ত্রে জোরে শ্বাস টেনে নিয়ে ফুঁ দিতে হয়। এতে জানা যায়—
ফুসফুসে সংকোচন আছে কি না
ধূমপানের ক্ষতি কতটা
হাঁপানি বা COPD-এর অবস্থা
দূষণের প্রভাব
চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা
স্পাইরোমেট্রিতে সমস্যা ধরা পড়লে
ডাক্তার অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা করতে পারেন, যেমন—
লাং প্লেথিসমোগ্রাফি: ফুসফুসের আয়তন ও প্রতিরোধ মাপা
গ্যাস ডিফিউশন টেস্ট: অক্সিজেন রক্তে সঠিকভাবে প্রবেশ করছে কি না যাচাই
কার্ডিওপালমোনারি এক্সারসাইজ টেস্টিং (CPET): হাঁটা বা ব্যায়ামের সময় ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা
তথ্যসূত্র: হেলথ শটস
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা