স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনও দুই মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও ছোলা, খেজুর, মটর ডাল ও চিনি সহ রোজার প্রধান ছয় প্রকার ভোগ্যপণ্যের আমদানি আগেভাগেই শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নমনীয় নীতি ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার হারে বৃদ্ধি পেয়ায় পণ্যগুলো নির্বিঘ্নে দেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে কোনও পণ্যের সংকট হবে না এবং দামও বাড়ার সম্ভাবনা কম।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত খেজুর, মসুর ডাল, মটর ডাল ও ছোলা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে খালাস হয়েছে। বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি গত কয়েক মাসে ত্বরান্বিত হয়েছে। ফলে রমজান আগেই সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে কিছু পণ্যের জন্য এলসি খোলার হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ থেকে ২৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংক ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ায় পণ্য দ্রুত দেশে আসছে। সাধারণত এলসি খোলার তিন মাসের মধ্যে পণ্য দেশে পৌঁছায়; তাই বেশির ভাগ পণ্য ফেব্রুয়ারির আগেই খালাস হয়ে যেতে পারে।
বাজারমূল্য নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বর্তমানে মসুর ও অন্যান্য ডালের পাইকারি দাম গত বছরের চেয়ে কম। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ছোলা বিশ্ববাজার মূল্য ও আমদানি খরচ মিলিয়ে পাইকারিতে রমজানে ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে দাম বাড়তে পারে।
চিনির বাজারেও গত বছরের তুলনায় দাম নেমে এসেছে। নতুন ব্যবসায়ীদের আগমনে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং কিছু পাইকারী বিক্রেতা ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। সরকারি মিলে উৎপাদিত চিনি বিভিন্ন মূল্যবিন্দুতে থাকলেও বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম বাড়ার আশঙ্কা কম।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচুর পরিমাণ আমদানির পরও স্থানীয় স্তরে সিন্ডিকেট বা কালোবাজারের চেষ্টা রোধে বণিক সমিতি, ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে একযোগে তৎপর হতে হবে। এতে আমদানির সুফল জনগণের কাছে সস্তায় পৌঁছাবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি