সিনিয়র রিপোর্টার: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য পেশায় যুক্ত থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে এমপিওভুক্ত অবস্থায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারী অন্য কোনো চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পেশায় জড়িত থাকতে পারবেন না। প্রমাণ পাওয়া গেলে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি স্কুল ও কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫ প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, এত দিন শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও নতুন নীতিমালায় তা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালার ১১.১৭-এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাধিক পদে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। ‘খ’ ধারায় ‘আর্থিক লাভজনক’ পেশার তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে; সাংবাদিকতা, আইন পেশা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় চাকরি ইত্যাদি এর মধ্যে রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তদন্তে কারও অন্য পেশায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।
এ ছাড়া নীতিমালায় বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানকে পাবলিক পরীক্ষায় ন্যূনতম পাসের হার অর্জন করতে হবে এবং পরিশিষ্ট ‘গ’ অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকতে হবে।
পদোন্নতি–সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকরা নিয়োগকালীন প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে দশম গ্রেডে সন্তোষজনক ১০ বছর চাকরি পূর্তির পর ‘সিনিয়র শিক্ষক’ হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। তবে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পেলেও সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির আওতায় আসবেন না। সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্তির পর দশম গ্রেডে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে তারা ৯ম গ্রেড (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা) বেতন স্কেলে উন্নীত হবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি