| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পশুপাখিকেও এমন খাবার দেয় না: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত বাংলাদেশিরা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫ ইং | ১৪:৫৭:৩০:অপরাহ্ন  |  ১১৮২৫৬৫ বার পঠিত
পশুপাখিকেও এমন খাবার দেয় না: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত বাংলাদেশিরা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশি ফয়সাল আহমেদ (ছদ্মনাম) এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “হাতে–কোমরে এখনও দাগ। বিমানবন্দরে নামার আগে টানা ৭৫ ঘণ্টা আমাকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি বাথরুমেও যেতে দেওয়া হয়নি।”

পাঁচ বছর আগে ভিজিট ভিসায় বলিভিয়া গিয়ে আর দেশে ফেরেননি ফয়সাল। দালালের মাধ্যমে পেরু, ইকুয়েডর ও মেক্সিকো হয়ে বৈধ কাগজ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরিচিতজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বাইডেনের সময়ে বিষয়গুলো তুলনামূলক সহজ ছিল, অনেকেই থেকেছেন, বলেন তিনি।

কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হলে তার বিপদ বাড়ে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ও তিনবার ওয়ার্ক পারমিট চাইলেও সফল হননি। বরং অ্যাটর্নির পরিচয়ে গড়ে ওঠা কিছু প্রতারক তাঁর মতো বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছয় মাস আগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে বাফেলোর ডিটেনশন সেন্টারে এবং পরে লুইসিয়ানার আরেকটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ছয় মাস যে খাবার দিত, মানুষ পশুপাখিকেও এমন খাবার দেয় না, বলেন তিনি।

এরপর শুরু হয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া। সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক চার্টার্ড ফ্লাইটে ফয়সালসহ ৩১ জন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ফেরত যাত্রাতেও তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ফ্লাইটে থাকা আরেকজন জানান, হাতে, গলায়, কোমরে শেকল পরানো হয় রাত বারোটায়। অথচ বাংলাদেশে আনার জন্য বিমানে তোলা হয় সকাল আটটায়। প্রায় ২৭–২৮ ঘণ্টা বিমানে ছিলাম, বাথরুমেও যেতে দেওয়া হয়নি।

ফেরত আসা ৩১ জনের অধিকাংশই নোয়াখালীর বাসিন্দা। তাঁদের একজন বলেন, হাতে–পায়ে–কোমরে বেড়ি। আমেরিকা থেকে তুলে আনার ৪০ ঘণ্টা পর গার্বেজের মতো ফেলে গেছে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে।

আরেকজনের ভাই জানান, দুই বছর আগে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি। জমি বিক্রি করে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করছি। এখন সব শূন্য, বলেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এভাবে ২৫০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই নোয়াখালী, সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের বাসিন্দা। আরও অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান ব্র্যাক মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। তাঁর মতে, নথিপত্রহীন কাউকে ফেরত পাঠানো স্বাভাবিক, তবে দীর্ঘ সময় হাত–পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা অমানবিক আচরণ।

তিনি বলেন, ৫০–৬০ ঘণ্টা ধরে শেকল পরানো অবস্থায় থাকা একজন মানুষের জন্য স্থায়ী মানসিক ট্রমা তৈরি করে। সরকারের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলা, যাতে মানবিক দিক বিবেচনায় রাখা হয়।

ব্র্যাকের হিসাবে, ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় আরও অন্তত ৩৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধভাবে এক দেশে গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে আরেক দেশে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক ফেরত আসাদের মধ্যে অন্তত সাতজন বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন, সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করেন প্রতিজন খরচ করেছেন ৩০–৩৫ লাখ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিল বা আফ্রিকা–উত্তর আমেরিকার যেসব দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে কর্মী পাঠানোর পরও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। শরিফুল হাসান বলেন, যে এজেন্সি পাঠিয়েছে, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যারা ছিল, সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সূত্র: বিবিসি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪