রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: দেশের আইনপ্রণয়ন ব্যবস্থায় বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার মোট ৯০টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, করনীতি, স্থানীয় সরকার, মানবাধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক খাত, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সবক্ষেত্রেই এসেছে বড় ধরনের সংশোধন ও নতুন বিধান।
এই সময়ে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে সর্বাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে—জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা-সংক্রান্ত একাধিক সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। উন্নয়ন একাডেমি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন আইনেও এসেছে পরিবর্তন।
বিচারব্যবস্থায় এসেছে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল—দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি আদালত আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত সংশোধনী অধ্যাদেশও ধারাবাহিকভাবে জারি হয়েছে।
করনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনায় এসেছে সর্বাধিক পরিবর্তন। মূল্য সংযোজন কর, কাস্টমস, আয়কর, ব্যাংক রেজোলিউশন, আমানত সুরক্ষা, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা—অসংখ্য সংশোধনী ও নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে নতুন কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে এসেছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, যা নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় নজরদারির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। মানবাধিকার রক্ষায় জারি হয়েছে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত একাধিক সংশোধনী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট পরিবার ও অংশগ্রহণকারীদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ ও সম্মান জানাতে জারি হয়েছে বিশেষ অধ্যাদেশ, যার মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ ২০২৫।
এ ছাড়া মহেশখালী, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার জন্য একাধিক অধ্যাদেশ জারি হয়েছে।
২০২৪–২৫ মেয়াদে জারি হওয়া সব অধ্যাদেশের আলাদা তালিকা সরকার প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে প্রশাসনিক, আর্থিক, বিচারিক ও স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত সংস্কারই রয়েছে সবচেয়ে বেশি।