রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সেবন নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী হলেন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২৫ সেশনের সাকিবুল হাসান রানা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা ফার্মগেটের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সহপাঠীর খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে নানা ধরনের স্লোগান দেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তারা সড়ক ছেড়ে কলেজের পাশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান পালন করেন। সড়ক অবরোধের কারণে আশেপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সেবন নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন। সাকিবুল হাসান রানা (বিজ্ঞান বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), জান্নাত (আইডিয়াল কলেজ, মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৫–২৬)।
অভিযোগ রয়েছে, আহত শিক্ষার্থী জান্নাত ছাত্রদলের প্রভাবশালী একটি গ্রুপের সহায়তায় হোস্টেলে অবস্থান করতেন।
হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তরুণ–সেলিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মোমেন পালোয়ান আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রাবাস ও হলে আধিপত্য বিস্তার করছেন। মাদক সেবন, বহিরাগতদের নিয়ে অপকর্ম এবং অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, যারা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং ফেসবুকে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ভর্তি বাণিজ্য ও ফর্ম পূরণের বাণিজ্যেও ছাত্রদল সক্রিয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহত সাকিবুল হাসান রানা আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গাজীপুরের শ্রীপুরে দাফনের জন্য নেওয়া হয়, যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোস্টেল সুপার বাদি হয়ে ইতিমধ্যেই একটি মামলা করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম