রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আহমেদ জোবায়ের (২৩) নামে এক কৃষককে এক্সকাভেটরের চাকার নিচে পিষে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এক্সকাভেটর ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আহমেদ জোবায়ের বড় পালশা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ এক্সকাভেটরের চালক আবদুল হামিদকে আটক করেছে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় পালশা গ্রামের মাঠটি সম্পূর্ণ আবাদি জমি। সেখানে আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে পুকুর খনন হয়নি। বুধবার রাতে গোপনে সেখানে এক্সকাভেটর নামিয়ে পুকুর খননের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মসজিদের মাইক থেকে মোয়াজ্জিন আবদুল মান্নান ঘোষণা দেন। এরপর গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
প্রথমে জোবায়েরসহ সাত থেকে আটজন পুকুর খননের প্রতিবাদ জানান। তখন চালক আবদুল হামিদ দ্রুত এক্সকাভেটরের বালতি (বাকেট) চারদিকে ঘোরাতে থাকেন। এতে ধাক্কা লেগে জোবায়ের মাটিতে পড়ে যান। পরে পালানোর চেষ্টাকালে চালক ইচ্ছাকৃতভাবে জোবায়েরের ওপর দিয়ে এক্সকাভেটর চালিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর শতাধিক গ্রামবাসী মাঠে নেমে চালক হামিদকে আটক করেন এবং এক্সকাভেটরে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় পুকুর খননের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান (বকুল) মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে তাঁর মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে জোবায়েরকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে আনিসুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে জানান, এটি বকুলের নম্বর নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পোড়া মোটরসাইকেল পড়ে আছে এবং এক্সকাভেটরের নিচে আগুনের চিহ্ন রয়েছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেছেন।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, আটক চালক আবদুল হামিদ বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমার জানামতে আনিসুজ্জামান এই পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে থাকলেও আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট করেছেন। এখন বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে ধানি জমিতে পুকুর খননের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
রিপোর্টার্স২৪/এসসি