| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রংপুরে বাড়ছে সড়কে দুর্ঘটনা, ১১ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫ ইং | ১৪:৪৪:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৩৬৫৯২৬ বার পঠিত
রংপুরে বাড়ছে সড়কে দুর্ঘটনা, ১১ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রংপুর অঞ্চলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে ৪১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ৪৬৪ জন। আহতদের একটি বড় অংশ এখন পঙ্গুত্বের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

দুর্ঘটনার এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার ৭৫৮টি মামলা করেছে হাইওয়ে পুলিশ, যা থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ রংপুর রিজিয়ন সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া, বোদা, সাতমাইল, তারাগঞ্জ, বড়দরগা, গোবিন্দগঞ্জ ও হাতীবান্ধা এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের থানা রয়েছে। এসব থানার আওতায় রয়েছে ৩৭৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ও ১৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সড়কের কিছু অংশের নাজুক অবস্থা, বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। দুই মাস আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন নাট্যকার ও ভাওয়াইয়া গবেষক আশরাফুজ্জামান বাবু। বদরগঞ্জ থেকে রংপুর শহরের দিকে যাওয়ার পথে গুরুতর আহত হয়ে তার মুখ ও ঠোঁটে একাধিক সেলাই পড়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুর্ঘটনায় আহত যুবক রাশেদ এখন হুইলচেয়ারে বন্দি। একসময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি, আজ নিজ জীবন নিয়েই লড়াই করছেন।

 রংপুর নগরীর নজিরেরহাট এলাকার আব্দুর রহিম অনিক গত ২৪ সেপ্টেম্বর বদরগঞ্জ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও সন্তানসহ গুরুতর আহত হন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। ঋণ করে চলছে তার চিকিৎসা একদিকে দেনার চাপ, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

বাবু, রাশেদ কিংবা অনিক এরা শুধু কয়েকটি মুখ। এমন অসংখ্য দুর্ঘটনার গল্প রয়ে গেছে আড়ালে। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই রংপুরের মহাসড়কগুলোতে শুরু হয় মানুষের ছুটে চলা কেউ জীবিকার সন্ধানে, কেউবা ঘরে ফেরার আশায়। কিন্তু এই পথই অনেকের জন্য হয়ে উঠছে শেষ ঠিকানা।

দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত টহল, যানবাহন তল্লাশি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও চালকদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। চালকদের একাংশ আইন মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন। অদক্ষ চালক, বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ রংপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার আবু তোরাব মো. শামছুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অদক্ষ চালকই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। আমরা নিয়মিত টহল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। ভবিষ্যতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত ও ১ হাজার ৩১৭ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪