শাহানুজ্জামান টিটু
৫ আগস্ট ২০২৫। গণবিক্ষোভের মুখে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিদায়ের পর বাংলাদেশ দেখেছিল এক নতুন ভোরের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি ফিকে হয়ে আসছে? গত কয়েক মাসে দেশি ও বিদেশি শক্তির গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হয়েছে বাংলার মাটিতে। এই ষড়যন্ত্রের সবশেষ ও সবচেয়ে ভয়ংকর শিকার হলেন আধিপত্যবাদ বিরোধী তরুণ বিপ্লবী ওসমান হাদি। তার মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক পরিকল্পিত আঘাত।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: কেন তাকেই বেছে নেওয়া হলো?
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন সত্যপরায়ন ও আগ্রাসি শক্তির বিরুদ্ধে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, রাজধানী বিজয়নগরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে কয়েক ডজন বিদেশি নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং তরুণ বিপ্লবীদের মধ্যে ভীতি ছড়াতে তাকে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে হলো।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা? ১৯৭১ বনাম ২০২৪
এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি এবং ২০২৪-এর ফ্যাসিস্ট দোসররা হাত মিলিয়েছে। তাদের মূল অস্ত্র এখন ‘অনলাইন মব’ এবং বিপুল কালো টাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আঠারোটি ছাত্র সংগঠনের দাবি—ফ্যাসিস্ট শক্তির আর্থিক উৎসগুলো এখনও সচল, যা ব্যবহার করে তারা প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই হামলাকে ‘নির্বাচন বানচালের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আর কত হাদিকে জীবন দিতে হবে? বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ষড়যন্ত্রকারীরা বিদেশে বসে যে কলকাঠি নাড়ছে, তা রুখতে হবে সচেতন জনতাকেই। ওসমান হাদির রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য দরকার স্বচ্ছ তদন্ত এবং ফ্যাসিবাদের আর্থিক শিকড় উপড়ে ফেলা।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক