শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শনিবার (২১ ডিসেম্বর) শরীয়তপুরের সখিপুরে আটক নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতাকে ছাড়াতে থানায় হাজির হন স্থানীয় বিএনপি নেতা। এসময় তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক নয়া-দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার, কালবেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহিন আহমেদ এবং এশিয়ান টেলিভিশনের রুহুল আমীন জুয়েল। ঘটনাটি শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সখিপুর থানায় ঘটে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার সখিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগেও তার বিরুদ্ধে আটক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় তদবির করার অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন মাসুদকে আটক করে সখিপুর থানা পুলিশ। থানায় থাকাকালে তাকে ছাড়াতে বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে থানায় আসেন। পুলিশকে আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে থানার ভেতরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে বিএনপি নেতার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হামলায় তিন সাংবাদিক আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য আসে আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে বিএনপি নেতারা থানায় এসে হট্টগোল করছে। খবর পেয়ে আমি ও আমার দুজন সহকর্মী থানায় গিয়ে বিষয়টি ওসি সাহেবের কাছে জানার চেষ্টা করি। পরে তথ্য সংগ্রহ করে থানা থেকে বের হয়ে থানার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এসময় হঠাৎ করেই মাজহারুল ইসলাম সরদারসহ কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। তিনি বলেন, আমাদের জন্য ওই যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে পারেননি। থানার মতো জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা খুবই ভয়ংকর ও লজ্জাজনক।”
আহত সাংবাদিক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। কিন্তু ছবি তুলতেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে আমি গুরুতর আহত হই। থানার ভেতরে নিরাপত্তা না থাকলে আমরা কোথায় নিরাপদ থাকব?”
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজিম উদ্দীন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সারা দেশে একযোগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালিত হচ্ছে। এক যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়াতে বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম এসেছিলেন। আমি তাকে বলেছি, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ছাড়ানো যাবে না। এসময় তিন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটি দুঃখজনক ঘটনা। অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নেব।”
এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন