আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা উচিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত নিয়োগের পর এই মন্তব্য করেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ল্যান্ড্রি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে দ্বীপে কাজ করবেন। ট্রাম্প বলেন, আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার—জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, খনিজ সম্পদের জন্য নয়। তিনি আশপাশের সমুদ্রে চীনা ও রুশ নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডেনমার্ক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন বলেন, ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা যায় না। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুই গ্রিনল্যান্ডবাসীর, এবং তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকলেও তা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হবে।
বিশেষ দূত ল্যান্ড্রি সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্যে এই দায়িত্ব গ্রহণে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। ল্যান্ড্রি সাবেক সেনাসদস্য ও লুইজিয়ানার গভর্নর, এবং জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্ব তার গভর্নরের কাজকে প্রভাবিত করবে না।
গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে এবং ১৯৭৯ সাল থেকে স্বশাসন রয়েছে। যদিও স্থানীয়রা স্বাধীনতার আগ্রহ প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।
ট্রাম্পের এ অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে। বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি