গাজীপুর প্রতিনিধি : ‘ঢাকাই মসলিনের’ অন্যতম প্রধান উপকরণ ছিল ফুটি কার্পাস। একসময় ঢাকাই মসলিন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও মর্যাদাপূর্ণ কাপড় হিসেবে পরিচিত ছিল। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র, যা ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি হতো। পরবর্তীতে এটি বিলুপ্ত হলেও বর্তমানে এর পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে।
২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ও গবেষকদের উদ্যোগে ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে বিরল ফুটি কার্পাসের সন্ধান পাওয়া গেছে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়।
বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার হাইলজোর গ্রামে তাজউদ্দীনের জমিতে ফুটি কার্পাসের কয়েকটি গাছের অস্তিত্ব শনাক্ত করে।
বাংলাদেশের এক অনন্য প্রাচীন জনপদের নাম কাপাসিয়া। দেশের প্রাচীন ভূখণ্ডগুলোর অন্যতম এই কাপাসিয়া অঞ্চলটি গৌরবময় ইতিহাসের ধারক। মুসলিমপূর্ব যুগ থেকে শুরু করে মুসলিম শাসনামলে উত্তরে টোক, পূর্বে কিশোরগঞ্জ এবং দক্ষিণে সোনারগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ইতিহাসখ্যাত কিংবদন্তির মসলিন কাপড় উৎপাদিত হতো।
অতি সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মিহি আঁশের কার্পাস তুলা উৎপাদিত হতো শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরে।
সংস্কৃত ও হিব্রু ভাষায় তুলার অপর নাম কার্পাস। ফারসি ভাষায় ‘কারবস’, বাংলা ও হিন্দি ভাষায় ‘কাপাস’। কাপাসের গাছকে বলা হয় কাপাসি। এই ‘কার্পাস’ শব্দ থেকেই কাপাসিয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অধিকাংশ গবেষকের মত।
খ্রিষ্টপূর্ব যুগ থেকেই এ অঞ্চলে কার্পাস তুলার ব্যাপক চাষাবাদ ছিল। একসময় কাপাসিয়া ছিল মসলিন উৎপাদন ও বিপণনের একটি বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র। কার্পাস ও রেশমি বস্ত্র প্রাচীন বাংলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল। কাপাসিয়ার ভূমি ও আবহাওয়া তুলা উৎপাদনের জন্য ছিল অত্যন্ত উপযোগী। পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্পাস তুলা উৎপন্ন হওয়ায় এই এলাকার নাম কাপাসিয়া হয়েছে বলেও অনেকের ধারণা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন