রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডাজনিত অসুবিধায় খেটে খাওয়া দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষি শ্রমিক এবং রিকশা-ভ্যান চালকরা এখন কার্যত আয় বন্ধের মুখে পড়েছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ, কিন্তু ঠান্ডাজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে মানুষ কাজের জন্য বের হতে পারছেন না। এর ফলে দিনমজুরদের দৈনিক আয় প্রায় শূন্যে নেমে গেছে। অনেক পরিবার এখন খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ভোরে কাজে বের হলে হাত-পা জমে যায়। কাজ নাই, আয় নাই, কিন্তু সংসার চলবে তোএখন সত্যিই বিপদে পড়েছি।
চিলমারী উপজেলার নৌ বন্দর এলাকার নৌকার মাঝি মো. কাশেম মিয়া বলেন, নদীতে কুয়াশা এত ঘন যে নৌকা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। তিন দিন ধরে কোনো যাত্রা সম্ভব হচ্ছে না। কুড়িগ্রাম পৌর শহরের আমেনা বেগম বলেন, যে ঠান্ডা, তা ছাগল নিয়ে খুব বিপদ তৈরি করেছে। ছাগলের গায়ে গরম কাপড় দিয়েছি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি কম। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, শহরে শীত সহনীয় হলেও চরাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এখানে মানুষ দিন আনে দিন খায় কাজ বন্ধ মানেই খেয়ে না থাকা।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়েছে। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে গরম কাপড় ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জরুরি।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের প্রতিটি দিনই সংগ্রামের। এই শীতে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নয় উপজেলায় ৫৪ লাখ টাকার ২২ হাজার কম্বল শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার জেলায় সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম