গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে রাতের আঁধারে এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি নার্সারির প্রায় ১০ হাজার গাছের চারা বিষ প্রয়োগে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারি মালিকের অন্তত ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম ভুরুলিয়ার মাঝিরখোলা এলাকায় অবস্থিত বাদল রায়ের মালিকানাধীন ‘প্রমিস নার্সারি’তে।
নার্সারি মালিক বাদল রায় জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে নার্সারিতে এসে তিনি ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। সারি সারি গাছের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে, পাতাগুলো পুড়ে কালচে হয়ে গেছে। পরে নিশ্চিত হন রাতে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে তার নার্সারির সব চারা ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন,আমার নার্সারিতে গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গাঁদা, বাগান বিলাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার চারা ছিল। কয়েক মাস ধরে যত্ন করে বড় করছিলাম। কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বিক্রির উপযোগী হতো। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এমন সর্বনাশ করলো বুঝতে পারছি না। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবো জানি না। ন্যায়বিচারের আশায় আমি গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ ঘটনায় নার্সারির শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রমিস নার্সারির কর্মচারী মালু মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
এই নার্সারির প্রতিটি চারা আমরা নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি। রোদ–বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনের পর দিন পরিচর্যা করেছি। আর এখন এক রাতে সব শেষ! গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা কেন? এটা কী ধরনের নিষ্ঠুরতা!
স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। কারণ একই রাতে নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রায় সব চারাতেই বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দা শুরু হয়েছে। পরিবেশপ্রেমীরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পরিবেশ ও সবুজায়নের বিরুদ্ধেও এক ভয়ংকর বার্তা দেয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারি মালিক দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম