রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভারত থেকে আসা ট্রাকের চালক ও হেল্পাররা দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের আশঙ্কা, বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র পরিবহন, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় যাতায়াত হতে পারে।
সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের মাধ্যমে সীমান্ত লাগোয়া দেশগুলোর সঙ্গে স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়। দেশে বর্তমানে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। এসব স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে একজন চালক ও একজন হেল্পার থাকেন।
তবে তাঁদের আগমন ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে হয় না। ফলে তাঁদের পরিচয় ও যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষিত থাকে না।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, স্থলবন্দরগুলোতে ভারতীয় চালক-হেল্পারদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয় না। কারণ তাঁরা কাস্টমসের ইস্যু করা ‘কার্ড পাস’ ব্যবহার করেন। বেশির ভাগ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রম না থাকায় যানবাহনের কাগজপত্র ও ভ্রমণ দলিল যাচাই শেষে এন্ট্রি ও এক্সিট সিল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি-রপ্তানিতে নিয়োজিত পণ্যবাহী ট্রাকচালক ও হেল্পারদের তথ্য সংরক্ষণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ ইমিগ্রেশন ছাড়াই তাঁদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে।
গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ভেহিকল টার্মিনাল ও স্থলবন্দরের নির্ধারিত এলাকার বাইরেও তারা যাতায়াত করেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও স্টপ লিস্টভুক্ত ব্যক্তিরা চালক বা হেল্পার পরিচয়ে ‘কার্ড পাস’ নিয়ে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করতে পারেন। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক-হেল্পাররা অপরাধ সংঘটনের পর সহজেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একইভাবে বাংলাদেশিরাও একই পরিচয়ে অপরাধী বা স্টপ লিস্টভুক্ত হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র পরিবহন, নকল পণ্য ও নথিপত্র পাচার, পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় যাতায়াতসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে।
সংকট মোকাবেলায় প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো— দেশের সব স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ট্রাকচালক ও হেল্পারদের আসা-যাওয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য এন্ট্রি নিশ্চিত করা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যাতায়াতের তথ্য অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া। ভেহিকল টার্মিনাল ও স্থলবন্দরের নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করা এবং টার্মিনালের বাইরে অবাধ চলাচল রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিং, বিশেষ নজরদারি ও সমন্বিত তদারকি জোরদার করা।
তথ্যসূত্র : কালের কণ্ঠ
রিপোর্টার্স২৪/এসএন