রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কেবল রাজনীতির মাঠেই নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও ছিলেন একজন মনোযোগী ও ক্রীড়ানুরাগী অভিভাবক। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের লড়াইয়ে আপসহীন এই নেত্রী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও নেমে এসেছে গভীর শোক।
খেলাধুলার প্রতি খালেদা জিয়ার আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতার নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ছাইদ হাসান কানন। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী থাকাকালে খালেদা জিয়া প্রায়ই তার খোঁজখবর নিতেন। একদিন রাতে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সময় পেছন থেকে ডেকে তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, “তোমার ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে।”
রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও ক্রীড়াঙ্গনের খোঁজখবর রাখতেন খালেদা জিয়া। এ প্রসঙ্গে কানন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে তিনি শারীরিক শিক্ষা বিভাগে যোগ দিলে খালেদা জিয়া তখনকার উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে তার বিষয়ে কথা বলেন। খেলাধুলার মাঠে বা কোনো আয়োজনে দেখলে তাকে আদর করে ডাকতেন “মোহামেডানের কানন।”
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় সম্মানগুলোর একটি আসে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাফজয়ী জাতীয় ফুটবল দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫ কাঠা করে সরকারি প্লট প্রদান করেন। ওই দলের অধিনায়ক ছিলেন হাসান আল মামুন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মান ছিল ব্যতিক্রমী এবং জীবনে এমন সম্মান আর কখনো পাননি।
ফুটবলাররা কিস্তিতে পরিশোধের মাধ্যমে প্লটের মালিক হন। পাশাপাশি সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ লাখ টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়, যা বাকি অর্থ পরিশোধে সহায়ক হয়েছিল।
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৫ সালে চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় এবং ২০০৩ সালের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দুটিই তার শাসনামলেই অর্জিত হয়। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমার থেকে ট্রফি জিতে ফেরার রাতেই ফুটবলারদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার ক্রীড়ানুরাগী সত্তার আরেকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলেট ও কোচ শামীমা সাত্তার মিমো। তিনি খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ক্রীড়াবিদ জানান, অ্যাথলেটিক্সে তার ধারাবাহিক সাফল্যে পত্রিকার শিরোনাম হতো ‘স্বর্ণময় মিমো’। এতে খালেদা জিয়া গর্ব করে বলতেন আমাদের গর্ব, স্বর্ণ মিমো।
শামীমা সাত্তার মিমো বলেন, খেলাধুলার উন্নয়নে খালেদা জিয়া সবসময় আন্তরিক ছিলেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। দিনাজপুর বিকেএসপি তারই উদ্বোধন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ক্রীড়া জীবনে অসংখ্য সাফল্যের অধিকারী মিমো খেলা শেষে কোচিং পেশায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিকেএসপির উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও ক্রীড়াঙ্গনে কখনোই কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেননি। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকাকালেই তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছিলেন, যা তার পেশাগত সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই তাকে একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ও অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করছেন। যিনি ক্রীড়াবিদদের শুধু সাফল্যের সময় নয়, সম্মান ও মর্যাদার জায়গায়ও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম