রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বিনামূল্যে নিরাপদ খাবার পানিকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ১৬ পৃষ্ঠার এই রায় গত ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে আদালত বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল নাগরিকদের নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না এবং এটি মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই রুলের ওপর রায় দেন উচ্চ আদালত।
রায়ে নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে সরকারকে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব পানির উৎস যেন ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়, শুকিয়ে না যায় কিংবা দূষিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সব আদালত ও আইনজীবী সমিতিসহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জনসমাগমস্থল।
এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ পানযোগ্য পানি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যে দেশের সব পাবলিক প্লেসে নিরাপদ ও বিনামূল্যে পানযোগ্য পানি সরবরাহে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; সে বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত মামলাটি চলমান রেখেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মামলার শুনানিতে এমিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি