ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নতুন বছর উদযাপনের সময় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের একটি হোটেল ও ক্যাফেকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছে মস্কো।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) খেরসন অঞ্চলের রাশিয়া-নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তার বক্তব্যের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোর অভিযোগ তোলেন।
সালদো বলেন, উপকূলীয় গ্রাম খোরলিতে নতুন বছর উদযাপন চলাকালে তিনটি ইউক্রেনীয় ড্রোন একযোগে আঘাত হানে। তিনি দাবি করেন, হামলাটি ছিল বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত এবং এতে আগুন ধরে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা, যেখানে ড্রোন ব্যবহার করে নতুন বছর উদযাপনে অংশ নেওয়া বেসামরিক মানুষের ওপর আঘাত করা হয়েছে। রাশিয়া এই ঘটনাকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রামে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররাই শেষ পর্যন্ত এই হামলার দায় বহন করবে। এ ঘটনায় রাশিয়ার সংসদের উভয় কক্ষের স্পিকারসহ একাধিক শীর্ষ রাজনীতিক কিয়েভের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।
খেরসন অঞ্চলটি ইউক্রেনের সেই চারটি অঞ্চলের একটি, যেগুলো ২০২২ সালে রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করে। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এই দাবিকে অবৈধ দখল বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইউক্রেনের এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইউক্রেন কেবল শত্রুপক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তু, জ্বালানি ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বৈধ স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালায়। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করে।
এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা রাতের বেলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এর ফলাফল যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের আলমেতিয়েভস্ক তেল স্থাপনাতেও হামলার দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, আলমেতিয়েভস্ক স্থাপনাটি ইউক্রেনের নিকটতম সীমান্ত থেকে প্রায় ৯৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা বর্তমানে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকারও অনেক বাইরে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম