রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত কষ্ট, নিপীড়ন ও ত্যাগ স্বীকার করেও আজীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সংগ্রাম করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ জুমা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় কবরস্থানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়; অনেককে অশ্রুসজল চোখে দেখা যায়।
মির্জা আব্বাস বলেন, “ম্যাডামের জন্য দোয়া করতে এসেছি। আল্লাহ তাআলা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। সব মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু খালেদা জিয়ার মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। কারণ তাকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে এবং এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল যেন তিনি বেঁচে না থাকেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই সীমাহীন যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের কথা ভেবে সবকিছু সহ্য করেছেন। তার ত্যাগ ও আন্দোলনের ফলেই আজ বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো তিনি নিজে সেই গণতন্ত্রের সুফল দেখে যেতে পারেননি।”
চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা ৪০ দিন হাসপাতালে থাকার পর গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জনসমুদ্রের মধ্যে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের শেষ দিন শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর দলের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ আয়েশা