নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে ঝড়ো বাতাস ও ঢেউয়ের তোড়ে ৩৯জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম (২৮) ও দুই রোহিঙ্গা যাত্রীসহ মোট তিনজন নিখোজ রয়েছেন। স্থানীয় জেলেদের তিনটি ট্রলারে ৩৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে একজন মারা যান। নিহতের নাম গিয়াস উদ্দিন(৪৫)। তিনি ভাসানচর থানার ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (৩১ মে) দুপুর ২টার দিকে ভাসানচর থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে যাওয়ার পথে উপজেলার করিম বাজার এলাকায় ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলারটিতে ৩ জন পুলিশ, ৪ জন আনসার সদস্য, ৬ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩৯ জন যাত্রী ছিলেন। ঝড়ো আবহাওয়া ও নদীতে উঁচু ঢেউয়ের কারণে ডুবোচরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ডুবে যায়। হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের স্থানীয় তিনটি বোটের সহায়তায় ৩৫ জন যাত্রীকে জীবিত ও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো ৩ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড বর্তমানে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রলারটি হরণী ইউনিয়নের আলী বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
ভাসানচরে থাকা হাতিয়ার বাসিন্দা জিহাদ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনা নদীতে ঝড়ো হাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আপডেটের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, দুপুর ২টার দিকে ট্রলারটি যাত্রা শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভাসানচর থেকে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবারচরের কাছে ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং নৌপুলিশকে জানানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে আশপাশে থাকা ট্রলারগুলোর সহায়তায় ৩৫ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য,আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য ৪জন রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে একজন আনসার সদস্যকে লক্ষ্মীপুরে রামগতি মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব