আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার দুই শীর্ষ মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার বা দণ্ডিত করতে সহায়তাকারীদের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোকে গ্রেপ্তার বা দণ্ডিত করতে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মাদুরোকে আটক করার পর তাঁর সরকারের সব শীর্ষ নেতাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি—এ প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। “আপনি গিয়ে পুরো একটি দেশজুড়ে সবাইকে ধরে আনতে পারেন না,” বলেন তিনি।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলায় আরও দীর্ঘ সময় অবস্থান করে একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করার চেষ্টা করত, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তিনি বলেন, “আমরা যদি সেখানে থেকে যেতাম, তাহলে কী ধরনের চিৎকার আর প্রতিবাদ হতো, তা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারটি অর্জন করেছি।”
পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনার জবাবে রুবিও বলেন, অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে লিবিয়া, ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। “এটি মধ্যপ্রাচ্য নয় এবং এখানে আমাদের মিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন,” বলেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে। ক্যারিবীয় সাগরে বড় নৌবহর মোতায়েন এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ’ দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পুরস্কার ঘোষণা দেশটির ক্ষমতাসীন মহলে চাপ আরও বাড়াবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি