| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খাগড়াছড়ির কালাপাহাড়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ০২:০০:৩১:পূর্বাহ্ন  |  103023 বার পঠিত
খাগড়াছড়ির কালাপাহাড়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম কালাপাহাড় অঞ্চলে সেনাবাহিনী সম্প্রতি একটি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চলাকালে স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু করা এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী ও অপরাধি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড, নদী ভাঙন ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে বাসিন্দারা মূল শহর ও বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় জনগণ ঝিরি বা ছোট খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে দৈনন্দিন জীবন চালাচ্ছিল, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, মানবিক সহায়তা ও জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে এবং গুইমারা রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে প্রকল্পটি শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীছড়ির হাতিছড়া পাড়া, ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি ও পাঙ্কু পাড়া—মোট ৪টি দুর্গম গ্রামকে একীভূত করে নিরাপদ পানির স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২২,২০০ ফিট দীর্ঘ পানির পাইপলাইন স্থাপন এবং ৮টি পানির রিজার্ভ ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৩৭৬ পরিবার, প্রায় ১,৭৫০ জন বাসিন্দা নিয়মিত নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছেন। প্রকল্পের জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পাইপ লাইন স্থাপন ও অন্যান্য শ্রমসাপেক্ষ কাজ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রতিটি পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি থেকে পানি আনতে হতো, বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রকল্পের মাধ্যমে তারা এখন সরাসরি নিজেদের বসত এলাকায় নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারছেন।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনকল্যাণে তারা সমান্তরালভাবে কাজ করছে। শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোই নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করাও তাদের অগ্রাধিকার। আগামীদিনেও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বনভূমি, ঝর্ণা ও ঝিরির মাঝে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রকল্পের ফলে আরও সুসংহত হবে। এছাড়া স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪