| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দরপত্র দাখিলে বাধা পেশাদার হাট ব্যবসায়ীরা ইজারায় অংশ নিচ্ছেন না

খাস আদায়ের নামে ঝিনাইদহের ৪৬টি হাটের টাকা হরিলুট

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ ইং | ১৫:১১:৩৯:অপরাহ্ন  |  67693 বার পঠিত
খাস আদায়ের নামে ঝিনাইদহের ৪৬টি হাটের টাকা হরিলুট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: দরপত্র দাখিলে বাধা, পেশাদার হাট ব্যবসায়ীদের দূরে ঠেলে দিয়ে খাস আদায়ের নামে ঝিনাইদহ জেলার ৪৬টি হাটবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি চক্র সরকারি বিধি উপেক্ষা করে নামমাত্র টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বাকি অর্থ নিজেদের পকেটে তুলছে। ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৯৭টি ইজারাযোগ্য হাটবাজার রয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৪৫টি, শৈলকুপায় ২৭টি, হরিণাকুন্ডুতে ২৮টি, কালীগঞ্জে ৩১টি, কোটচাঁদপুরে ১৯টি এবং মহেশপুর উপজেলায় রয়েছে ৪৭টি হাটবাজার।

সূত্র অনুযায়ী, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৪৫টির মধ্যে ৩২টি, শৈলকুপায় ২৭টির মধ্যে ১৯টি, হরিণাকুন্ডুতে ২৮টির মধ্যে ১৯টি, কোটচাঁদপুরে ১৯টির মধ্যে ১২টি এবং মহেশপুরে ৪৭টির মধ্যে ৩৭টি হাটবাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। শুধু কালীগঞ্জ উপজেলাতেই সব হাট নিয়মিতভাবে ইজারা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহ জেলার ইজারাকৃত হাটবাজারগুলো থেকে সরকার প্রতি বছর ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। পাশাপাশি জেলার চারটি পৌরসভার অধীনে থাকা ৩৭টি হাট থেকে আরও প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব আসে। কিন্তু বর্তমানে বহু হাট ইজারার বাইরে থাকায় এই বিপুল রাজস্ব আদায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর হাটবাজারগুলো ইজারার জন্য একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পেশাদার কোনো হাট ব্যবসায়ী সিডিউল কিনতে পারছেন না। রাজনৈতিক পেশিশক্তির দৌরাত্ম্যের কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে নিয়মিত ইজারা না হয়ে ‘খাস আদায়’পদ্ধতিতে হাট পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যাপক অনিয়মের জন্ম দিচ্ছে।

বিশেষ করে জেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট গান্না বাজার, মহেশপুরের পুড়োপাড়া, খালিশপুর সাধারণ বাজার, শৈলকুপা বাজার, ঝিনাইদহ পৌরসভা ও সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারসহ মোট ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ হাট দীর্ঘদিন ধরে খাস আদায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হাট থেকে আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ রাজনৈতিক দলের নামে রশিদ তৈরি করে ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে, যার সিংহভাগই সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, দরপত্র দাখিল না হওয়ায় অনেক হাটবাজার ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। হাট ইজারার আয় থেকে উপজেলা পরিষদ যে ১৫ শতাংশ পাওয়ার কথা, সেটিও পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪