শেরপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগে শেরপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন গ্যাস গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি মাসে নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ক্ষুব্ধ হয়ে শেরপুর পৌরসভার নবীনগর এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করেন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, শেরপুরের আবাসিক এলাকাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বেড়ে যাওয়ায় বৈধ গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছেন না। গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় একেবারেই গ্যাস থাকে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার বৈধ গ্রাহকরা। এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে শহরের শেখহাটি মহল্লার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা তিতাস গ্যাস অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।
শেখহাটি মহল্লার গৃহিণী আকিলা বেগম বলেন, দিনের বেলায় কোনো গ্যাসই পাই না। আমাদের ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, তারা স্কুলে পড়ে। তাদের খাবার রান্না করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি লাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ায় আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. চাঁন মিয়া বলেন, গ্যাস সংযোগের শুরু থেকেই আমরা নিয়মিত বিল দিয়ে আসছি, কোনো বকেয়া নেই। তারপরও পাঁচ বছর ধরে ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছি না। সকাল ছয়টার দিকে গ্যাস চলে যায়, রাত বারোটার পর আসে। তাও চাপ এত কম থাকে যে রান্না শেষ করতে করতে সকাল হয়ে যায়। আমরা অফিসকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজ বিক্ষোভ করছি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন ও তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম দেন তারা।
এ বিষয়ে শেরপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কাইয়ুম শেখ বলেন, শেখহাটি এলাকার সার্ভিস লাইনটি ২ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার এক ইঞ্চি লাইনের কাজ করেছে। আগে প্রেশার ভালো থাকায় তেমন সমস্যা হয়নি। বর্তমানে জাতীয়ভাবে গ্যাস সংকটের কারণে চাপ কমে যাওয়ায় এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান বলেন, শীত মৌসুমে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অফিসের আশপাশের এলাকায় সারাদিন গ্যাস পাওয়া গেলেও একটু দূরের এলাকায় দিনের বেলায় চাহিদা বেশি থাকায় গ্যাস পেতে সমস্যা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি