স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তারেক রহমান নিজেই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে তাকে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।’
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সে অনুযায়ী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে এখনো দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, এমনকি প্রচারণায় চেয়ারম্যান পদবিও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে দলীয় প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই।
বিএনপির মিডিয়া সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছেন। তবে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫–এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে তিনি শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে ব্যবহার করতে পারবেন। এসব ছবি পোর্ট্রেট আকারে ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো অনুষ্ঠান বা জনসভায় নেতৃত্বদান বা প্রার্থনারত ভঙ্গিমায় প্রদর্শন করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব