টেকনাফ (কক্সবাজার)প্রতিনিধি: মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সীমান্ত এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আহত শিশুটি স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা জসিম উদ্দিন জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হুজাইফা বাড়ির সামনে খেলছিল। হঠাৎ আরকান আর্মি বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলির আঘাতে তার কানেও চোট লেগেছে।
হুজাইফাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, হুজাইফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে আছেন।
সীমান্তে অভিযান ও আটক
সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে থাকা মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, এদেরকে পরে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।
সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি
স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আরসা ও আরকান আর্মির মধ্যে প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। একপর্যায়ে আরসার সদস্যরা আরকান আর্মির তাড়া খেয়ে বাংলাদেশি সীমান্তে চলে আসে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদের বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা গেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কও কিছু সময় অবরোধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী এবং সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে জনতাকে শান্ত করেন ও অবরোধ তুলে নেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি