ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিস্তা এই অঞ্চলের একটি বড় নদী এবং দীর্ঘকাল ধরে এর কোন সমাধান হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করা হবে। এটি বিএনপির অঙ্গীকার।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি তাঁতীপাড়া মহল্লায় নিজ পৈত্রিক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে এনগেজ করব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে আমাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করব। সঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারলে দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসবে এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও খুন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
নির্বাচনে ভোট টানার রাজনীতি এবং সংস্কার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে যা কিছু ভালো অর্জন, তার সবটুকুই বিএনপির। তিনি বলেন, “একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বর্তমানে সংস্কার কমিশন যেসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তার অধিকাংশ আগে থেকেই বিএনপির ‘৩১ দফা’র মধ্যে রয়েছে।”
বিএনপিকে একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়ে বিএনপি সবচেয়ে সফল ও ভালো কাজগুলো করে দেখিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মহাসচিব জানান, তারেক রহমান অবশ্যই আসবেন। বগুড়া তার পৈতৃক নিবাস এবং দিনাজপুর তার নানার বাড়ি। এছাড়া তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ অন্যান্য শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে ফখরুল বলেন, “এখনো সবাই মনোনয়ন ও সাংগঠনিক কাজ গুছাচ্ছে। নির্বাচনের প্রকৃত আমেজ ও পরিস্থিতি বোঝা যাবে প্রচারণা শুরু হওয়ার পর।”
বিদ্যমান সংবিধানে সরকার গঠিত হলে পুনরায় ‘ফ্যাসিবাদ’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফখরুল বলেন, “যারা বিদেশে বসে বড় বড় কথা বলেন, তাদের কাছে এসব মনে হতে পারে। আমরা ফ্যাসিস্টদের তাড়াতে জানি, প্রয়োজনে মার খেতেও জানি। আমাদের ৩১ দফার বাইরে নতুন কোনো সংস্কার নেই। প্রশ্ন করার আগে আমি সবাইকে ৩১ দফা পড়ার অনুরোধ জানাই।”
সাম্প্রতিক ক্রিকেটীয় বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও দেশের সম্মান জড়িত। “আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। তবে ছোটখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই শ্রেয়।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন