সিনিয়র রিপোর্টার: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দল জামায়াতের কাছে নির্বাচনী পরিবেশ, সম্ভাব্য অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে জানতে চায়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইইউ মিশনের নেতৃত্ব দেন প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের আমির।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন সব দলের জন্য সমান সুযোগ রয়েছে কি না, নির্বাচনে কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ বা অভিযোগ আছে কি না। তিনি বলেন, জামায়াতের কিছু অভিযোগ রয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো প্রকাশ করা হবে না। আগে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে জানানো হবে। সেখানেও সমাধান না হলে জনগণকে অবহিত করা হবে।
জামায়াত সরকার গঠন করলে প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব সভ্য, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে। কোনো নির্দিষ্ট শক্তির দিকে ঝুঁকে না পড়ে বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষা করাই দলের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী আসন সমঝোতা আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে এবং তা একসঙ্গে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি হিজাব খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে অপমান বা হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি। নির্বাচন হাতছাড়া হলে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াত ‘মিডনাইট নির্বাচন’ চায় না এবং এবার সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া উচিত নয়।
বর্তমান প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে তাদের নিরপেক্ষ হতে বাধ্য করা হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, কিছু গণমাধ্যম নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। গণমাধ্যম দলীয় না হয়ে সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এটাই জামায়াতের প্রত্যাশা।
ইইউ প্রতিনিধি দল এবারের নির্বাচনে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলেও জানান শফিকুর রহমান। তারা দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করবে।
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ শীর্ষ নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি