| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, হাসপতালে সেনাসদস্যদের অবরুদ্ধ

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:৫০:০১:অপরাহ্ন  |  ৯৬২০৪৯ বার পঠিত
সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, হাসপতালে সেনাসদস্যদের অবরুদ্ধ

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫১) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা দাবি করছেন, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয়রা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। ডাবলু ওই সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (হাফিজা ফার্মেসি) অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগ উঠেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তিনি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর বরণ করেন। পরে সেনাবাহিনী তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডাবলুর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে রাত থেকে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা রাস্তায় পিকেটিং, আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সেনা সদস্যদের মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ ঘটনাস্থলে আসেন।

এই সময় বাবু খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, “আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না। এই ঘটনার বিচার হবে।” বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।

এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। দুপুর দেড়টায় মরদেহ উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়।

নিহত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর সহধর্মিণী জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় সেনা সদস্যরা এসে তাকে বেদম মারধর করে। তারপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান।”

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পি.পি. কর্মকর্তা ডাঃ মকবুল হোসেন বলেন, “আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি এবং মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, “এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় মামলা হবে। পুলিশবাহিনী সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা প্রদান করবে।”

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, “সুরতহাল রিপোর্ট আমি পেয়েছি। এখন আমি লাশ নিতে এসেছি। ময়নাতদন্ত হবে। সঠিক বিচারের দায়িত্ব আমি নেব।” এই ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্প থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪