রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : সারাদেশের মতো এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে রাঙ্গামাটি শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি-চালিত অটোরিকশায়। টানা তৃতীয় দিনের মতো জেলার পাঁচটি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ভেদভেদি এলাকায় অবস্থিত মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক শ’ সিএনজি অটোরিকশাকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি। কখন গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি পাম্প কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শহরের ভেদভেদি, বনরূপা ও আসামবস্তি এলাকার পাশাপাশি শহরের বাইরে মানিকছড়ি ও ঘাগড়া এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকরা গ্যাস পাচ্ছেন না।
সিএনজি চালক রফিকুল আলম বলেন, ‘গ্যাস আসবে শুনে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কখন পাব, কেউ বলতে পারছে না। গাড়ি রেখেও কোথাও যেতে পারছি না। পুরো দিনটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
আরেক চালক শান্তিপ্রিয় চাকমা বলেন, ‘তিন দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছি না। আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ ঋণের কিস্তি দিতে হবে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলফেরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের গাড়িতে তোলা হচ্ছে না।
রাঙ্গামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাকি গাড়িগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাসের চালান পাওয়ার আশ্বাস মিলেছে। তবে কখন গ্যাস আসবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এলে সীমিত পরিসরে সরবরাহ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘এটি শুধু রাঙ্গামাটির সমস্যা নয়, সারাদেশেই এলপিজি সংকট চলছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্থানীয়ভাবে জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখছে।’
রিপোর্টার্স২৪/এসএন