সিনিয়র রিপোর্টার: দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা থেকে সরে এসেছে। ফলে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন এ কথা স্পষ্ট করেছে সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকট ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে এ জন্য গঠিত জাতীয় পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রস্তুত করে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তা নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা যায়।
নির্বাচনের আগে পে স্কেল নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাস্তবসম্মত।
এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহার্ঘ ভাতা: কোন গ্রেডে কত?
গত বছরের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বাজেট ঘোষণার সময় যে প্রস্তাব আলোচনায় ছিল, তা অনুযায়ী—
১ম থেকে ৯ম গ্রেড:
➤ মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড:
➤ মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা
শেষ পর্যন্ত পে স্কেলের দিকে সরকার এগোলেও, এখন সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই হারে মহার্ঘ ভাতা বহাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ১ জুলাই। এর আগে সপ্তম বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই।
সাধারণত সরকার প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে থাকে। কিন্তু অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার ৯ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন পে স্কেল না আসায় অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন নিজ নিজ গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।
এই পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করছে।
পে কমিশনের অবস্থা
গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
সার্বিকভাবে, নতুন পে স্কেল ঘোষণার আগে সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতাই পাবেন, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে নির্বাচনের পর নতুন সরকারের হাত ধরে—এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি