দাগনভূঞা প্রতিনিধি : নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে দাগনভূঞা উপজেলায় আবাদ হচ্ছে বিষমুক্ত হাইব্রিড জাতের করলা। পরিবেশবান্ধব জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও মালচিং পেপার ব্যবহার করে উপজেলায় সবজি চাষের এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা বাড়ছে। ফলে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাসায়নিক সার, বালাইনাশক ও আগাছানাশক বাদ দিয়ে সবুজ সার, কম্পোস্ট, জৈবিক বালাই দমন এবং যান্ত্রিক চাষাবাদ ব্যবহার করে শাকসবজি চাষই বিষমুক্ত জৈব সবজি উৎপাদন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে ফসল উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না হওয়ায় ফসল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ফলে বিষমুক্ত ও নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদন নিশ্চিত হয়।
এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ খুশিপুর এলাকার কৃষক মো. ইউনুছ ৮ শতক জমিতে বিষমুক্ত করলার আবাদ করছেন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক ইউনুছ করলার জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি তোলার উপযোগী করলাও তুলছেন। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে হলুদ আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন পোকা দমন পদ্ধতি ব্যবহার করে করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষ করছেন কৃষক ইউনুছ ও এলাকার অন্যান্য কৃষকরা।
কৃষক ইউনুছ বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিরাপদ উপায়ে যেসব ফসল উৎপাদন করছি, সেগুলো প্রয়োজনে আলাদা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে আমরা কৃষকরা আরও লাভবান হব। পোকামাকড় দমনে ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহারের ফলে অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। মাচা পদ্ধতিতে করলার আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তোলার উপযোগী করলা এখনো অনেক আছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমীর উদ্দিন বলেন, কৃষকরা কীভাবে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারবেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. লুতফুল হায়দার ভূঁইয়া বলেন, সেক্স ফেরোমন পদ্ধতি মূলত সবজি জমির মধ্যে একটি প্লাস্টিকের বাক্সে রাখা বিশেষ পদার্থ, যা গন্ধ সৃষ্টি করে স্ত্রী কীট-পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। তারা বাক্সে রাখা সাবান মিশ্রিত পানিতে পড়ে মারা যায়। তিনি আরও বলেন, জমির ফসল কীট-পতঙ্গমুক্ত রাখতে নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী সেক্স ফেরোমন ও সাবান পানি মিশ্রিত বাক্স স্থাপন করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, জৈবিক উপায়ে নিরাপদ সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন